Celebration of Black Day in Higher Education

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুঘলকি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে 19 শে আগস্ট দিনভর বিরতিহীন ভবে অনৈতিক SACT নিয়োগের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের মাধ্যমে ” কালা দিবস ” উদ্‌যাপন করলো উচ্চশিক্ষিত ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষকরা। 19 শে আগস্ট কি হয়েছিল ? দেখা যায় এর ইতিহাস! গত বছর 19 আগস্ট হাওড়া জেলার এক প্রশাসনিক সভায় রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলিতে কর্মরত 14000 হাজারেরও অধিক আংশিক সময়ের অধ্যাপককে (GL, PTT, CWTT) এক ছাতার তলায় এনে SACT বা State Aided College Teacher নাম দিয়ে সকলের চাকরি 6০ বছর বয়স পর্যন্ত স্থায়ী করার কথা ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার বর্ষপূর্তিতে কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষক এই দিনটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষার কালা দিবস’ হিসেবে অভিহিত করে সারাদিনব্যাপী সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করল।

Advertisement

মূলত স্যাক্ট রোধ করার জন্য গড়ে ওঠা ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষকদের সংগঠন United Students and Research Scholars Association (USReSA) ছিল আজকের আন্দোলনের চালিকা শক্তি। সকাল থেকেই স্যাক্টের বিরুদ্ধে লেখালিখিতে, ছবিতে Whatsapp, Facebook ভরে যেতে শুরু করেছিল। ঠিক দুপুর 12 টায় সকলে একই সময়ে কালো প্ল্যাকার্ডে লেখা- ’19 আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষার কালো দিন’ ছবিটিকে নিজেদের ফেসবুকের প্রোফাইলের ছবি করেন। তাছাড়া ভিডিও বার্তার মাধ্যমে স্যাক্ট কী, তার ক্ষতিকর দিকগুলি তুলে ধরেন অনেকেই। সেগুলি পরস্পরের মধ্যে শেয়ার, কমেন্টসের মাধ্যমে বেশি বেশি লোকের কাছে পৌঁছে দিতে চেষ্টা করেন তারা। সন্ধ্যা 6 টা থেকে ছিল টুইটার কর্মসূচি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, রাজ্যপাল, ইউ জি সি কে কয়েক হাজার টুইট করে স্যাক্ট বাতিলের দাবি জানান কয়েক শ ছাত্র-ছাত্রী, গবেষকরা। তাদের এই ধরনের প্রতিবাদের প্রধান কারণ কলেজে পড়ানোর যাবতীয় যোগ্যতা থাকা প্রার্থীদের কলেজের চাকরি থেকে বঞ্চিত করে কলেজের অধ্যাপক নিয়োগের পদ্ধতি না মেনে, কোনোরকম যোগ্যতার পরীক্ষা না দিয়ে অনৈতিক ও অসাংবিধানিকভাবে অস্থায়ী শিক্ষকদের স্যাক্ট নাম দিয়ে স্থায়ীকরণ করে কলেজের চাকরির ক্ষেত্রটিকে সংকীর্ণ করে আনা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারে তুঘলকি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে USRESA র সাধারণ সম্পাদক তথা আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মহঃ জুবের আলম বলেন “সরকারের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের এইরূপ হঠকারী সিদ্ধান্তে আজ রাজ্যের হাজার হাজার গবেষক এবং যোগ্যতাসম্পন্ন চাকুরীপ্রার্থীরা গভীর হতাশায় দিনযাপন করছেন। তিনি আরও বলেন এইভাবে যোগ্যতাহীনদের কলেজে পড়ানোর সুযোগ করে দিলে আগামীদিনে উচ্চশিক্ষার মানের অবনতি ঘটতে বাধ্য। ”

NET Qualified এবং বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে M.phil রত ছাত্র নিশিকান্ত ভূঞ্যা বলেন,” বাবা ও মা দিনমজুরের কাজ করে উচ্চ শিক্ষিত করেছেন কিন্তু এখন আমি B.A ও M.A তে ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছি এবং NET Qualified করেও গভীর হতাশার মধ্যে ভুগছি। কারন যেভাবে মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার অনৈতিক ভাবে কলেজের অতিথি শিক্ষকদের স্থায়ীকরন করলেন তাতে করে আমার মতো উচ্চ শিক্ষিত ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যত একদিকে যেমন অন্ধকারে ঠেলে দিলেন তেমন উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দিলেন। দীর্ঘদিন কঠোর পরিশ্রম করে নেট পাস করার পর ভেবেছিলাম কলেজে চাকরি করে বাবা ও মা এর মুখে হাসি ফুটাতে পারব। কিন্তু মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনৈতিকভাবে যেভাবে অতিথি শিক্ষকদের স্থায়ীকরন করলেন, তাতে এখন ভবিষ্যত বলে কিছু দেখতে পাচ্ছি না। বেশিরভাগ কলেজে এক একটি বিভাগে এক বা দুজন অধ্যাপক বা অধ্যাপিকা আছেন কিন্তু সেখানে হয়তো দেখা যাবে 5 জন বা 6 জন অতিথি শিক্ষক আছেন। তাহলে ভবিষ্যতে কিভাবে কলেজে অধ্যাপক বা অধ্যাপিকা বেশি পরিমানে নিয়োগ করা হবে? তাছাড়া গত কলেজ সার্ভিস কমিশন এর মাধ্যমে অধ্যাপক ও অধ্যাপিকা নেওয়া হয়েছিল তাতে বেশিরভাগ বিষয়ে সিট সংখ্যা খুব কম ছিল। তাই খুব হতাশার মধ্যে দিন কাটছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুঘলকি সির্দ্ধান্তের বিরুদ্ধে আজ 19 শে আগস্ট আমরা উচ্চশিক্ষিত যুবক যুবতীরা ” কালা দিবস” হিসাবে পালনের ডাক দিয়েছিলাম তাতে অভূতপূর্ব ভাবে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবীর সমর্থন পেয়েছি। অনৈতিক ভাবে SACT নিয়োগে বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ কর্মসূচী চলছে ও চলবে। আমাদের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত আমরা উচ্চশিক্ষিত যুবক যুবতীরা প্রতিবাদ চালিয়ে যাবো ।”

 

Advertisement

আরও পড়ুন

আজ উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে “কালো দিন ” পালনের ডাক দিল USRESA! !

Leave a Reply

Your email address will not be published.