নিশিকান্ত ভূঞ্যাঃ- পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কলেজে ইউ জি সি এবং পশ্চিমবঙ্গ কলেজ সার্ভিস কমিশন এর নিয়ম লঙ্ঘন করে স্যাক্ট নামক কলেজ শিক্ষক নিয়োগের কারণ, যৌক্তিকতা এবং প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে এবার প্রশ্ন তুললেন বিশিষ্ট আইনজীবী এবং রাজনীতিক মাননীয় শ্রী দেবজিৎ সরকার মহাশয় । রবিবার সন্ধ্যায় একটি বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমে চলা বিতর্ক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্টতই বলেন রাজ্যের কলেজগুলোতে কলেজ সার্ভিস কমিশন এর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ না করে স্যাক্ট নাম দিয়ে কলেজের অস্থায়ী শিক্ষকদের স্থায়ীকরণ করা হচ্ছে কিভাবে । এতে NET/SET, M.Phil এবং Ph.D থাকা হাজার হাজার যোগ্যতা সম্পন্ন চাকুরী প্রার্থীকে বঞ্চিত করা হচ্ছে ।

Advertisement

 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার রাজ্যের সরকারি এবং সরকার পোষিত কলেজগুলোতে কর্মরত অস্থায়ী শিক্ষকদের স্যাক্ট নাম দিয়ে 60 বছর পর্যন্ত স্থায়ীকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এই স্যাক্ট শিক্ষকদের আবার দুটো ভাগ রয়েছে- ক্যাটাগরি 1 এবং ক্যাটাগরি 2 । এই ক্যাটাগরি 2 দের কলেজে শিক্ষকতা করার ন্যূনতম যোগ্যতা নেই এইকথাও রাজ্য সরকার 23/12/2019 তারিখের নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে । মাননীয় দেবজিৎ সরকার মহাশয় এই বিষয়টিকেও তুলে ধরেন । তিনি বলেন রাজ্যে কলেজে পড়ানোর মতো হাজার হাজার যোগ্যপ্রার্থীদের সুযোগ না দিয়ে মাস্টার্স ডিগ্রীতে 40 শতাংশ নম্বর পাওয়াদের 60 বছর পর্যন্ত স্থায়ীকরণ করা হবে কেন যেখানে তাদের বেতন এর টাকা সাধারণ মানুষের ট্যাক্স এর টাকা থেকেই দেওয়া হবে ।

 

রাজ্যপাল কি তবে সক্রিয় রাজনীতিতে আসতে চলেছেন? জোর জল্পনা রাজনৈতিক মহলে?

 

Advertisement

রাজ্যের কলেজগুলোতে স্যাক্ট শিক্ষক নিয়োগের নাম যে পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি চলছে তা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠরত ছাত্রছাত্রী, গবেষক এবং কলেজে শিক্ষকতা করার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন চাকুরীপ্রার্থীরা সরব হয়েছে । আইনি লড়াই করার জন্য তারা United Students and Research Scholars Association(USRESA) নামের একটি অরাজনৈতিক ফোরামও গড়ে তোলেন ।

রাজ্যের কলেজগুলোতে পূর্ণ সময়ের শিক্ষকের অভাব(যোগ্য প্রার্থী থাকলেও হাতা গোনা কয়েকজনকে চাকরি দেওয়া হয়) একটা দীর্ঘকালীন সমস্যা | সেই সমস্যার সাময়িক সমাধানের উদ্দেশ্যে কলেজগুলো নিজেদের মতো করে অস্থায়ী অধ্যাপক বা অতিথি অধ্যাপক নিয়োগ করে | পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চশিক্ষা দপ্তর বিগত 23 শে ডিসেম্বর 2019 তারিখে একটি সরকারি ঘোষণায় জানায় রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকার পোষিত কলেজের অস্থায়ী বা অতিথি অধ্যাপকদের 60 বছর বয়স পর্যন্ত স্থায়ীকরণ করা হবে এবং তাঁদের State Aided College Teacher বা SACT নামকরণও করা হয় | অথচ 13 জুলাই 2019 তারিখে উচ্চশিক্ষা দপ্তর একটি নোটিশ জারি করে এবং সেই নোটিশে তারা জানায় রাজ্যের সরকার পোষিত কলেজগুলোতে UGC ও CSC-র সঠিক পদ্ধতি এবং নিয়মনীতি না মেনেই অতিথি অধ্যাপক নিয়োগ করা হচ্ছে | এই প্রসঙ্গে তারা কলেজগুলোকে আর নতুন করে অতিথি অধ্যাপক নিয়োগ না করার অর্ডার দেয় | এর অর্থ হল, কলেজগুলো যেভাবে অতিথি অধ্যাপক নিয়োগ করেছে তাতে নিয়োগ সংক্রান্ত নিয়মনীতি সঠিকভাবে মানা হয়নি | এরপর 19 শে আগস্ট 2019 তারিখে হাওড়ার এক প্রশাসনিক সভা থেকে রাজ্যের মাননীয়া মুখমন্ত্রী কলেজের অস্থায়ী অধ্যাপকদের স্থায়ীকরণ করার মৌখিক ঘোষণা করেন এবং সেইমতো 23 শে ডিসেম্বর 2019 তারিখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চশিক্ষা দপ্তর একটা নোটিশ জারি করে | এই নোটিশে জানানো হয় রাজ্যের সমস্ত কলেজগুলোতে কর্মরত অস্থায়ী শিক্ষকদের 60 বছর বয়স পর্যন্ত স্থায়ীকরণ করা হবে | সেই নোটিশের দ্বিতীয় পয়েন্টে এটাও বলা হয়, যে সমস্ত অস্থায়ী শিক্ষকদের কলেজে পড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই তাদেরও 60 বছর বয়স পর্যন্ত স্থায়ীকরণ করা হবে |

 

বিজেপির মানবিক রূপ দেখলো রাজ্যবাসী !!!!! রাজ্যবাসীর কাছে কি বিজেপিই একমাত্র ভরসা????

 

ঠিক এখানেই উঠছে প্রশ্ন, যে সরকারের উচ্চশিক্ষা দপ্তর 2019 এর জুলাই মাসে নোটিশ দিয়ে জানায় সরকার পোষিত কলেজে অতিথি শিক্ষকদের নিয়োগ নিয়ম মেনে হচ্ছে না, সেই দপ্তরই ডিসেম্বর মাসে কী করে বলে অতিথি শিক্ষকদের 60 বছর বয়স পর্যন্ত স্থায়ীকরণ করা হবে! শুধু তাই নয়, যাদের কলেজে পড়ানোর ন্যূনতম যোগ্যতাই নেই তাঁদেরও 60 বছর পর্যন্ত স্থায়ী করা হবে এটা কী করে ঘোষণা করে! যাদের কলেজে পড়ানোর ন্যূনতম যোগ্যতা নেই তাদেরকে কলেজগুলো কী করে নিয়োগ করে অতিথি শিক্ষক হিসেবে? এটা কি দ্বিচারিতা নয়? এই মুহূর্তে রাজ্যে কলেজে পড়ানোর মতো যোগ্যতাসম্পন্ন প্রায় 30000 বেকার যুবক যুবতী রয়েছেন, রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত কি সেই সমস্ত যোগ্যতাসম্পন্নদের প্রতি অন্যায় নয় ?

এই প্রসঙ্গে তাদের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে USRESA র সভাপতি তথা বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জয়দেব পাত্র বলেন, “মাননীয় দেবজিৎ সরকার মহাশয়ের বক্তব্যের সাথে আমরা সহমত পোষণ করছি এবং ওনাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি স্যাক্ট শিক্ষক নিয়োগের এই বিষয়গুলোতে জনসমক্ষে তুলে ধরার জন্য ।”

 

দুর্নীতির টাকা ফেরতের দাবি করলেন বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী??? তবে কি মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সত্যের সম্মুখীন হতে চলেছেন???

Leave a Reply

Your email address will not be published.