protest against SACT

 

নিশিকান্ত ভূঞ্যাঃ-  গত বছর এই দিনে(১৯ আগস্ট) হাওড়া জেলার এক প্রশাসনিক সভায় রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলিতে বিগত কয়েক বছরে কলেজ কর্তৃপক্ষ যে ১৪ হাজারেরও অধিক আংশিক সময়ের অধ্যাপক (GL, PTT, CWTT) নিয়োগ করেছিল তাদের এক ছাতার তলায় এনে SACT বা State Aided College Teacher নাম দিয়ে সকলের চাকরি ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত স্থায়ী করার কথা ঘোষণা করেন। অথচ এইসকল অধ্যাপকদের নিয়োগ যে ইউ জি সি ও রাজ্যের সি এস সি-র নিয়ম-নীতিকে সঠিকভাবে না মেনে, যথাযত যোগ্যতার পরীক্ষা না নিয়ে করা হয়েছিল তা স্বয়ং পশ্চিমবঙ্গ সরকারই স্বীকার করে নিয়ে বিজ্ঞপ্তি (1081/EH/O/CS/4A-44/2019, Date- 13.07.2019) প্রকাশ করেছিল।

non-stop movement against SACT recruitment

Advertisement

protest against SACT

তার কিছুদিন বাদেই ২৩ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গ উচ্চশিক্ষা দপ্তর থেকে স্যাক্টদের স্থায়ীকরণের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায় যে ভারতীয় উচ্চশিক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউ জি সি এবং রাজ্যের কলেজ সার্ভিস কমিশনের নিয়ম-নীতি না মেনে, কোনোরূপ যোগ্যতার পরীক্ষা না নিয়েই সমস্ত আংশিক সময়ের অধ্যাপকদের স্থায়ীকরণ করছে রাজ্য সরকার।

SACT বনাম যোগ্যতাসম্পন্ন কলেজের হবু অধ্যাপক পদের চাকুরীপ্রার্থী – প্রসঙ্গ

স্যাক্টদের দুটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে অভিজ্ঞতার নিরিখে ৪ প্রকার বেতন কাঠামো স্থির করা হয়। কলেজগুলিতে এইভাবে অধ্যাপক নিয়োগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরের দিন থেকেই পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এমনকি পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাইরের রাজ্যে পড়তে যাওয়া বা গবেষণা করতে যাওয়া ছাত্র-ছাত্রী, গবেষকরা আন্দোলনে সামিল হন। ছাত্র-ছাত্রী, গবেষকদের আন্দোলনকে রাজ্য সরকার গুরুত্ব না দেওয়ায় স্যাক্ট রোধকে সামনে রেখে গোড়ে ওঠা ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষকদের সংগঠন United Students and Research Scholars Association (USReSA) কলকাতা হাইকোর্টে কেসও দাখিল করে। সেই কেস এখনও বিচারাধীন।

এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ জুবের আলমের থেকে জানা গেল যে, গত বছরের ২০ আগস্ট থেকে আজ পর্যন্ত এমন কোনো দিন নেই যেদিন স্যাক্ট বিষয়টি নিয়ে তারা কিছু না কিছু কর্মসূচি পালন করেননি। এমনকি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পূর্বের ন্যায় আবারো কলকাতার রাজপথে নেমে আন্দোলন করার ইচ্ছা তাদের রয়েছে বলে তিনি জানালেন।

Advertisement

এই সংগঠনের প্রেসিডেন্ট জয়দেব পাত্রের কাছে স্যাক্টের বিরোধিতার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান “স্যাক্টদের কেউই কলেজে পড়ানোর যোগ্যতার পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পাচ্ছেন না। তাছাড়া স্যাক্ট ক্যাটাগরি-২, যাদের নেওয়া হচ্ছে তাদের ইউ জি সি ও সি এস সি-র নিয়ম অনুযায়ী কলেজে পড়ানোর কোনোই যোগ্যতা নেই এবং ১৪০০০ এর মধ্যে এদের সংখ্যাই অধিক। কোন্‌ যোগ্যতা থাকলে তাকে স্যাক্ট ক্যাটাগরি-২ তে নেওয়া হচ্ছে সেটাও রাজ্য সরকার স্পষ্ট করেনি। ফলে এ নিয়ে রয়েছে বিরাট প্রশ্ন চিহ্ন।”

তাদের আরো বক্তব্য স্যাক্ট নিয়োগের ফলে উচ্চশিক্ষার ভিত ধ্বংস হয়ে যাবে, শিক্ষার মানের প্রভূত অবনমন ঘটবে। এমনকি কলেজে পড়ানোর যাবতীয় যোগ্যতা যাদের রয়েছে সেইসমস্ত যোগ্য প্রার্থীরা কলেজের চাকরি থেকে বঞ্চিত হবেন। কারণ তাদের সিটগুলি অনৈতিক ও অসাংবিধানিকভাবে নিয়োগ পাওয়া এইসমস্ত স্যাক্টরা দখল করে বসে থাকবেন ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত।

 

আরও পড়ুন

“আমি স্কুল শিক্ষক চাকরিপ্রার্থী আমার বার্ধক্য ভাতার ব্যবস্থা করে দিন। “সোশাল মিডিয়ায় বিক্ষোভে সামিল উচ্চ শিক্ষিত যুবক যুবতীরা !

Leave a Reply

Your email address will not be published.