নিশিকান্ত ভূঞ্যাঃ- পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের (WBP&RD) অধীন পশ্চিমবঙ্গ রাজ‍্য গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার (WBSRDA) অন্তর্গত একটি সরকারী স্বশাসিত সংস্থা “পশ্চিমবঙ্গ রাজ‍্য সোশ্যাল অডিট ইউনিট” ২০১৫ সালের ১লা মে তারিখে গঠিত হয়। এই সংস্থার অধীনে সব জেলায় অতিরিক্ত জেলাশাসকের প্রতিনিধিত্বে “জেলা সোশ্যাল অডিট ইউনিট” আছে। 2011 সালের MGNREGA অডিট অব স্কীম আইনের জন্য এই রাজ‍্য সোশ্যাল অডিট ইউনিটের সৃষ্টি হয়।

২০১৫ সাল থেকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, পরীক্ষা, ইন্টারভিউ দিয়ে নিযুক্ত এবং জেলা আধিকারিকদের দ্বারা প্রশিক্ষিত হয় ২৫০৪০ জন গ্রামীণ সম্পদ কর্মী বা সোশ্যাল অডিট ভিলেজ রিসোর্স পারসনরা- SAVRP ।

Advertisement

সারা বাংলার সকল পঞ্চায়েত গুলিতে গ্রাম সম্পদ কর্মীরা হলো একটি সক্রিয় সহযোগী অংশ। গ্রাম সম্পদ কর্মীরা একটি অর্থবর্ষে মাত্র ১৫ দিন বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্প যেমন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, জাতীয় গ্রামীণ কর্মনিশ্চয়তা গ‍্যারান্টি প্রকল্প, জাতীয় পরিবার সহায়তা প্রকল্প, জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন প্রকল্প ইত্যাদিতে সামাজিক নিরীক্ষার কাজ করে এবং জুলাই, ২০১৮ থেকে ভেক্টর বর্ণ ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম VBDC বা ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিমাসে ২০ দিন মাসিক ৩৫০০ টাকা নামমাত্র ভাতাতে বাড়ি বাড়ি সার্ভে, ড্রেন পরিস্কার , আবর্জনা পরিস্কারের কাজ করছে।

এছাড়া শৌচাগার সার্ভে, স্বাস্থ্যসাথী সার্ভে, আবাস যোজনায় নাম নথিভুক্তিকরণ, পুষ্টি কমিটি সমীক্ষা, জীববৈচিত্র্য সার্ভে, শস্যবীমা, কৃষকবন্ধু সমীক্ষা, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড সার্ভে করে এবং করোনা প্রতিরোধে থেকে শুরু করে বাড়ি বাড়ি শারীরিক অবস্থার খবর নেওয়া, রেশনদোকান ও বাজারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছানো, পোষ্টার লাগানো, ভিন রাজ‍্যে আটকে থাকা শ্রমিক পরিবার থেকে তথ‍্য সংগ্রহ, পরিযায়ী শ্রমিকদের উপার্জনের ব্যবস্থা, জয়বাংলা নথি সংগ্রহ-পরীক্ষা প্রভৃতি কাজ করে থাকে।

এক গ্রামীণ সম্পদ কর্মী বলেন, ” বর্তমানে রাজ‍্য সরকারের চরম বঞ্চনার শিকার গ্রাম সম্পদ কর্মীরা অদক্ষ শ্রমিক মজুরি ২২০ টাকার থেকেও কম ১৭৫ টাকা মজুরিতে ভীষনরকম অসহায় ও দারিদ্র্য দশায় ভুগছে এবং পরিবারের ছেলেমেয়ে স্ত্রীর দায়িত্ব পালনে আমরা অক্ষম। সরকারি নিয়মে আমরা কোনো অতিরিক্ত কাজ করতে পারিনা। হয়ত মূল্যবৃদ্ধির পরিবেশে আমরা ধীরে ধীরে স্বেচ্ছামৃত্যু বরণ করে নিতে বাধ্য হবো।”

Advertisement

পশ্চিমবাংলায় সব পঞ্চায়েত অফিসে কনট্রাকচুয়াল কর্মীরা ন‍্যূনতম ৭২০০ টাকা মাসিক ভাতা পায়।

গ্রামীণ সম্পদ কর্মীদের অভিযোগ যে, মাননীয়া মূখ্যমন্ত্রী ২০১৯-লোকসভা ভোটে এপ্রিল মাসে বিভিন্ন জনসভায় প্রকাশ‍্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন VRP দেরকে মাসিক বেতন কাঠামোর মধ্যে আনবেন ও মাসিক ১২০০০ টাকা বেতনের ব‍্যবস্থা করে দেবেন। আজ পর্যন্ত মূখ্যমন্ত্রী VRP দের প্রতিশ্রুতি পালনের উদ্যোগ গ্রহন করেননি।

দীর্ঘ একবছরে উনি VRP ‘দের নাম পর্যন্ত উচ্চারণ করেননি। আমরা সরকারি উৎসাহ ভাতা বা ইনসেনটিভ এবং উৎসব ভাতা বা বোনাস থেকেও বঞ্চিত হচ্ছি। আমাদের সহকর্মী VRP ‘দের মধ্যে অনেকেই কাজের সময় পথ দূর্ঘটনায়, পোকার কামড়ে, সাপের কামড়ে, হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছেন। VRP দের বাড়ির লোক রাজ‍্যসরকার থেকে কোনও সমবেদনা, অর্থ সাহায্য, কোনও কাজ পাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় গ্রাম উন্নয়ন মন্ত্রক (MORD) বিভিন্ন সময় জারি করা Mgnrega আইন সংশোধনী, বিভিন্ন অর্ডারে, বার্ষিক মাষ্টার সার্কুলার ২০১৯-২০২০ ও ২০২০-২০২১ অনুযায়ী গ্রাম পঞ্চায়েত গুলির সব প্রকল্পে সব স্কিমে সোশ্যাল অডিট করানোর নির্দেশ দিলেও, রাজ‍্যসরকার সেগুলো কার্যকর করে নাই। এছাড়া ১৫ জুলাই ২০২০ সালে কেন্দ্র সরকার ১০০ দিনের কাজে প্রতি সপ্তাহে সমসাময়িক সোশ্যাল অডিট চালু করার বিষয়টিও পশ্চিমবঙ্গে থমকে আছে।

সকল খবর সবার আগে ফেসবুকে ফ্রী পেতে চাইলে আমাদের পেজ লাইক করুন। Click Here..

আজ সারা ভারতবর্ষে কেরালা, মেঘালয়, বিহার, মিজোরাম, তেলেঙ্গানা প্রভৃতি রাজ‍্যে ভিআরপিরা প্রায় ১০০০০ থেকে ১৪০০০ টাকা মাসিক বেতন পাচ্ছে। সারা বাংলা গ্রামীণ সম্পদ কর্মী সংগঠনের নেতৃত্বে সারা রাজ‍্যে বিভিন্ন দাবী তুলে ধরে ভিআরপিরা তিনবছর যাবৎ বহু ব্লক ও ডিএম অফিস, মন্ত্রী, এমএলএ, নেতা দের কাছে বারে বারে ডেপুটেশন দিয়েছে, নবান্নে গণ-পত্রপ্রদান কর্মসূচি করেছে; সেপ্টেম্বর,২০১৮ ও ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ কলকাতার বুকে মহা সমাবেশ , সাংবাদিক সম্মেলন করেছে।

গ্রামীণ সম্পদ কর্মীদের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, আমরা গ্রাম সম্পদ কর্মীরা বাংলার মানসকন্যা মায়ের কাছে কিছু দাবী রাখছি :-

১. ২০১৯ লোকসভা ভোটের প্রতিশ্রুতি পালন করে SAVRP দের মাসিক সিস্টেমে আনতে হবে।

২. SAVRP দের সরকারি কর্মীর মর্যাদা ও কর্মনিশচয়তা দিতে হবে।

৩. SAVRP মাসিক ১৫০০০ বেতন দিতে হবে।

৪. কনকারেন্ট সোশ্যাল অডিট চালু করে প্রতিসপ্তাহে প্রতিমাসে পঞ্চায়েতের সব প্রকল্পে ১০০% সোশ্যাল অডিট করাতে হবে।

৫. SAVRP দেরকে স্বাস্থ্য সাথী, জীবনবীমা, মৃত‍্যুকালীন আর্থিক সুবিধা দিতে হবে।

৬. ডেঙ্গু প্রতিরোধ কাজে প্রতিদিন দক্ষশ্রমিক মজুরী দিতে হবে।

গ্রামীণ সম্পদ কর্মীদের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে,উপরোক্ত দাবি সমূহ পূরণ না হলে আগামীদিনে সারা বাংলা গ্রামীণ সম্পদ কর্মী সংগঠনের নেতৃত্ব ও ভিআরপি’রা কলকাতা ও জেলাগুলিতে সমাবেশ, থালা হাতে পথপরিক্রমা এবং সর্বশেষ আমৃত্যু অনশনে বসার জোরালো ভাবনা চিন্তা করছে। যাইহোক মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রামীণ সম্পদ কর্মীদের দাবি সমূহ মেনে নেয় কিনা তা দেখার বিষয়। কারন সামনে ২০২১ এর বিধানসভার নির্বাচন।

 

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বিপাকে পড়তে চলেছে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকস্তরের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছাত্রীরা???? এর দায়ভার কে নেবে??? বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নাকি রাজ্য সরকার???

Leave a Reply

Your email address will not be published.