Sact

 

২৩/১২/২০১৯ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ উচ্চশিক্ষা দপ্তর সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ যে সকল অস্থায়ী অধ্যাপক (GL/PTT/CWTT) নিয়োগ করেছিল তাদের এক ছাতার তলায় এনে State Aided College Teacher বা SACT নাম দিয়ে তাদের দুটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত তাদের চাকরি সুনিশ্চিত করার জন্য বিজ্ঞপ্তি (No.2018 –Edn (CS)/ 10M-83/2019) প্রকাশ করে। এই মেমরানডামকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষকদের সংগঠন United Students and Research Scholars Association (USReSA) কলকাতা হাইকোর্টে সিঙ্গেল বেঞ্চে অনেক আগেই কেস দাখিল করে। পরে সেই কেস ডিভিশন বেঞ্চ পর্যন্ত গড়ায়। আগামীকাল সেই কেসের তৃতীয় শুনানি (3rd hearing) সকাল ১১ টায় হাই কোর্টের ১৬ নম্বর কক্ষে দুই মহামান্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, উক্ত মামলার ০৪/০৮/২০২০ তারিখের শুনানি বিশেষ কারণবশত হয়নি।

Advertisement

Sact

Sact
USReSA-র পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেস করার পিছনে যুক্তি হল – UGC, CSC-র নিয়ম মেনে কোনোরকম যোগ্যতার পরীক্ষা না দিয়ে চাকরি পান SACT-রা। তাছাড়া SACT ক্যাটাগরি-২ তে যাদের নিয়োগ করা হয়েছে তাদের UGC ও CSC-র নিয়ম অনুযায়ী কলেজে পড়ানোর ন্যূনতম যোগ্যতা NET, SET, Ph.D কিছুই নেই। এমনকি অনেকের মাস্টার ডিগ্রিতে ৫৫% নম্বরও নেই। প্রায় ১২০০০ SACT-এর মধ্যে ক্যাটাগরি-২ এর সংখ্যাই অধিক। এমনকি কোন্‌ যোগ্যতা থাকলে তাকে SACT ক্যাটাগরি-২ তে নেওয়া হচ্ছে সেটাও সরকার স্পষ্ট করেনি। ফলে এ নিয়ে রয়েছে বিরাট প্রশ্ন চিহ্ন। পশ্চিমবঙ্গে এই মুহূর্তে প্রায় ৩০,০০০ প্রার্থী রয়েছে যাদের UGC–র নিয়ম মতে কলেজে পড়ানোর যাবতীয় যোগ্যতা– NET, SET, Ph.D রয়েছে। অথচ তাদেরকেও যোগ্যতা পরীক্ষার সুযোগটুকুও দেয়নি রাজ্য সরকার।

সংগঠনের সভাপতি জয়দেব পাত্র জানালেন- ‘যোগ্যদের বঞ্চিত করে কলেজগুলিতে SACT নিয়োগ করে কলেজের চাকরির ক্ষেত্রকে সংকীর্ণ করে দিতে চাইছে রাজ্য সরকার। SACT নিয়োগ পুরোপুরি অনৈতিক ও অসাংবিধানিক। এতে উচ্চশিক্ষার মানের প্রভূত অবনমন ঘটবে। আমরা সরকারের কাছে আবেদন নিবেদন করেছি, আন্দোলনও করে চলেছি প্রায় এক বছর ধরে কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। ফলে শেষে আইনের সাহায্য গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছি আমরা।’

Advertisement


সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ জুবের আলম বললেন- ‘প্রায় ১২০০০ SACT ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত সপ্তাহে ১৫ ঘণ্টা করে ক্লাস নিলে পরবর্তীতে নতুনরা চাকরি পাবে কী করে? সরকার আমাদের আশাহত করলেও ভারতীয় বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে, জয় শেষে সত্যেরই হবে।’ ফলে আগামীকালের কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়ের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত মহল ও সাধারণ মানুষ।

 

আরও পড়ুন

আগামীকাল অতিথি অধ্যাপক মামলার শুনানি কলকাতা হাইকোর্টে! অপেক্ষায় গবেষক ও স্যাক্ট অধ্যাপকেরা !

Leave a Reply

Your email address will not be published.