Traveling Encyclopedia Hapan Majhi

 

অরূপ মাহাতঃ-  স্যোশাল মিডিয়ায় “জোহার জঙ্গলমহল” নামে পরিচিত ছিলেন, আবার পেশাগত লেখালেখির জন্য ব্যবহার করতেন “হপন মাঝি” নাম। জঙ্গলমহলের ভ্রাম্যমাণ এনসাইক্লোপিডিয়া ডা. মনোরঞ্জন মাহাত ছিলেন ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ীর বাসিন্দা। ১৯৫৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেছিলেন বেলপাহাড়ী এলাকার মুড়ারী গ্রামে। জল-জঙ্গল-আদিবাসীদের জন্য লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন সারা জীবন। অসম্ভব ভালোবাসতেন নিজের সংস্কৃতিকে। নিজের সংস্কৃতির টানেই লিখেছিলেন ‘কুড়মি ও কুড়মালি’। এছাড়াও কুড়মালি সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক ‘ফুরুং’ পত্রিকার সম্পাদনা করেন তিনি।

Traveling Encyclopedia Hapan Majhi

Advertisement

Traveling Encyclopedia Hapan Majhi

কর্মজীবনে বিভিন্ন সংবাদপত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। সংবাদ প্রতিদিনের হয়ে সামলেছেন অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার দায়িত্ব। সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন দ্যা বেঙ্গল পোস্ট, একদিন সহ বিভিন্ন সংবাদপত্রে। কর্মজীবনে পেয়েছিলেন কুড়মালি ভাষা-সংস্কৃতি গবেষক ড. পশুপতি মাহাতর সান্নিধ্য। তিনি নিজেও যুক্ত ছিলেন ‘কুড়মালি ভাখি বাইসি’র সঙ্গে। ছিলেন ঝাড়গ্রামের জেলা সম্পাদক। জঙ্গলমহলের সঙ্গে ছিল নাড়ির টান। চিনতেন হাতের তালুর মতোই। তাই পরিচিত মহলে জঙ্গলমহলের ভ্রাম্যমাণ এনসাইক্লোপিডিয়া নামে খ্যাত ছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে এশিয়াটিক সোসাইটিতে ‘জঙ্গলমহলের জীবনচর্চা শিক্ষা সাহিত্য সংস্কৃতিকে ফিরে দেখা’ শীর্ষক এক আলোচনায় নিজের জীবনবোধ তুলে ধরে উপস্থিত গুণীজনদের মুগ্ধ করেছিলেন “হপন মাঝি”।

সকল খবর সবার আগে ফেসবুকে ফ্রী পেতে চাইলে আমাদের পেজ লাইক করুন। Click Here..

সবসময় মাটির কাছাকাছি থাকতে ভালোবাসতেন। জঙ্গলের জল হাওয়া ছিল তাঁর প্রাণশক্তি। তাই সারা পৃথিবী যখন ব্যস্ত থাকত বিশ্ব পরিবেশ দিবস, অরণ্য সপ্তাহ পালনের আয়োজনে, তখন তিনি জীবনের সায়াহ্নে এসেও অবিরত কাজ করে চলেছিলেন নিজের ও পৃথিবীর প্রাণশক্তি বাড়াতে। স্থানীয় স্ব-সহায়ক দল ও বেশ কিছু শুভানুধ্যায়ীদের নিয়ে বেলপাহাড়ীর লালজল, গজ-ডুংরি সহ বিভিন্ন এলাকায় শাল, মহুয়া, পলাশ, অর্জুন, পিয়াল প্রভৃতি গাছ। জঙ্গলের ঘনত্ব বাড়িয়ে তুলতে নিরলস নিভৃতে কাজ করে চলেছিলেন। মানুষের কাছে “ফরেস্ট ম্যান” হিসেবে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছিলেন তিনি। সেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চলে গেলেন অসময়ে। পৃথিবীর হৃদয়ে অক্সিজেন ভরে দেওয়ার কাজে সর্বক্ষণ লেগে থাকা মানুষটির হৃদস্পন্দন থেমে গেল গত ২৭ আগস্ট, ২০২০। অভিভাবকহীন হল জঙ্গলমহল।

 

Advertisement

রাজ্যে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক কি তৃণমূল কংগ্রেসের হাতছাড়া হতে চলেছে??? বিজেপি শিবিরের উল্লাস!!!

Leave a Reply

Your email address will not be published.